ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাসড়ক ও ব্রীজে ফাটল: মৃত্যুঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

87

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফকিরহাট এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হযরত খাজা কালু শাহ্ (রঃ) মাজার সংলগ্ন ওভারব্রিজটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এর ওপর নির্মিত এই পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির আরসিসি রিটেইনিং ওয়ালে দেখা দিয়েছে দুটি বড় ফাটল, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ব্রিজটির পশ্চিম পাশের রিটেইনিং ওয়াল ও জয়েন্টে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বড় ফাঁক তৈরি করেছে। ফাটলের গভীরতা এতটাই বেশি যে, ভেতরের লোহার রড স্পষ্টভাবে বাইরে বেরিয়ে এসেছে।

একই সঙ্গে পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং ড্রেনেজ লাইনের বিভিন্ন অংশেও ফাটলের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে—যা কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে বাড়তি ঝুঁকি ওভারব্রিজটির আশপাশেই অবস্থিত কালু শাহ্ ফাজিল মাদ্রাসা, কালু শাহ্ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং আমেনা বিদ্যানিকেতন প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ব্রিজের নিচ দিয়ে যাতায়াত করে।

ব্রিজের পশ্চিম পাশে রেললাইন ও একটি ব্যস্ত বাইপাস সড়ক থাকায় এলাকায় যান চলাচলও অত্যন্ত বেশি। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া আক্তার জানায়, প্রতিদিন স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় ব্রিজটির নিচ দিয়ে যেতে ভয় লাগে। বড় বড় ফাটল দেখে মনে হয় যেকোনো সময় ওপর থেকে কংক্রিট ভেঙে পড়তে পারে। বর্ষার দিনে পানি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
আরেক শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেছে, শুধু তারা নয়, ছোট ছোট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও একই ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে। ব্রিজটি পুরোনো হলেও ফাটল ধরার পরও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা হতাশ।

অভিভাবক মো. আবদুল গফুর বলেন, প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। বড় ফাটল যেকোনো সময় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মোছাম্মৎ রিনা বেগমের ভাষায়, ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসা রড দেখলে আতঙ্কিত হতে হয়। ছোট শিশুরা ঝুঁকি না বুঝেই এই পথ ব্যবহার করছে।

ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা স্থানীয়দের মতে, ভারী যানবাহনের কম্পন, পুরোনো কাঠামো এবং অবহেলার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবেশে কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি— জরুরি ভিত্তিতে প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ব্রিজটির পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি মূল্যায়ন দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন প্রয়োজনে বিকল্প চলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, এই ওভারব্রিজটি যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন পুরো এলাকার মানুষের।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

মহাসড়ক ও ব্রীজে ফাটল: মৃত্যুঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত সময় ০২:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
87

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফকিরহাট এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হযরত খাজা কালু শাহ্ (রঃ) মাজার সংলগ্ন ওভারব্রিজটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এর ওপর নির্মিত এই পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির আরসিসি রিটেইনিং ওয়ালে দেখা দিয়েছে দুটি বড় ফাটল, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ব্রিজটির পশ্চিম পাশের রিটেইনিং ওয়াল ও জয়েন্টে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বড় ফাঁক তৈরি করেছে। ফাটলের গভীরতা এতটাই বেশি যে, ভেতরের লোহার রড স্পষ্টভাবে বাইরে বেরিয়ে এসেছে।

একই সঙ্গে পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং ড্রেনেজ লাইনের বিভিন্ন অংশেও ফাটলের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে—যা কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে বাড়তি ঝুঁকি ওভারব্রিজটির আশপাশেই অবস্থিত কালু শাহ্ ফাজিল মাদ্রাসা, কালু শাহ্ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং আমেনা বিদ্যানিকেতন প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ব্রিজের নিচ দিয়ে যাতায়াত করে।

ব্রিজের পশ্চিম পাশে রেললাইন ও একটি ব্যস্ত বাইপাস সড়ক থাকায় এলাকায় যান চলাচলও অত্যন্ত বেশি। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া আক্তার জানায়, প্রতিদিন স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় ব্রিজটির নিচ দিয়ে যেতে ভয় লাগে। বড় বড় ফাটল দেখে মনে হয় যেকোনো সময় ওপর থেকে কংক্রিট ভেঙে পড়তে পারে। বর্ষার দিনে পানি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
আরেক শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেছে, শুধু তারা নয়, ছোট ছোট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও একই ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে। ব্রিজটি পুরোনো হলেও ফাটল ধরার পরও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা হতাশ।

অভিভাবক মো. আবদুল গফুর বলেন, প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। বড় ফাটল যেকোনো সময় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মোছাম্মৎ রিনা বেগমের ভাষায়, ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসা রড দেখলে আতঙ্কিত হতে হয়। ছোট শিশুরা ঝুঁকি না বুঝেই এই পথ ব্যবহার করছে।

ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা স্থানীয়দের মতে, ভারী যানবাহনের কম্পন, পুরোনো কাঠামো এবং অবহেলার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবেশে কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি— জরুরি ভিত্তিতে প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ব্রিজটির পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি মূল্যায়ন দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন প্রয়োজনে বিকল্প চলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, এই ওভারব্রিজটি যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন পুরো এলাকার মানুষের।