ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ

29

প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে। এরপর দাম্পত্য কলহ, অর্থ ও জমি লিখে দেওয়ার চাপ এবং একের পর এক মামলা। এমন নানা অভিযোগে জটিল হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের এক দম্পতির পারিবারিক বিরোধ। স্বামী মোকছেদুল ইসলাম রবি অভিযোগ করেছেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন আদালত ও দপ্তরে মোট পাঁচটি মামলা ও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার খামার জগন্নাথপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে মোকছেদুল ইসলাম রবির সঙ্গে নীলফামারী সদর উপজেলার দারোয়ানী বানিয়াপাড়া গ্রামের সালাম মোল্লার মেয়ে সুইটি সামিরার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১০ সালে তাদের প্রেম শুরু হলেও ২০২০ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

রবির অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রী সুইটি সামিরা তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। নিজের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সেখানে টাকা জমা রাখা অথবা জমি তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। এতে রবি অপারগতা প্রকাশ করলে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

রবি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে সুইটি সামিরা মিরাজ ই মোস্তফার সহযোগিতায় প্রথমে সৈয়দপুর থানায় এবং পরে জেল হাজতে থাকা অবস্থায় পার্বতীপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ছাড়া দিনাজপুরের আমলি আদালত-৫ এবং লিগ্যাল এইডসহ বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা ও অভিযোগ করা হয়েছে।

রবির দাবি, এসব মামলায় রহস্যজনকভাবে মিরাজ ই মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সুযোগ নিয়ে মিরাজ তাদের পারিবারিক সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করেন। এমনকি মিরাজের সঙ্গে তার স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার অভিযোগও করেছেন রবি। তার দাবি, মিরাজের প্ররোচনাতেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মিরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী ঢাকায় যাতায়াত করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিরাজকে সু্ইটি তার ভাই দাবী করলেও পারিবারিক ভাবে সে কোন আত্মীয় নয়।

এদিকে, ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন রবি। মিরাজ ই মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সে সম্পর্কে আমার বোন। তার সাথে আমার কোন খারাপ সম্পর্ক নেই। যা রটানো হচ্ছে তা মিথ্যা।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন অভিযুক্ত সুইটি সামিরা। তিনি বলেন, রবি বিবাহিত হলেও তা গোপন করে আমাকে বিয়ে করে। আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৩২ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে সে। শুধু তাই নয়, মিরাজ ই মোস্তফাকে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে যে অপবাদ দেয়া হয়েছে তা সত্য নয়। অনেক আগে মিরাজের সাথে অফিশিয়াল কাজে ঢাকাতে গিয়েছিলাম সে সময়ের হোটেলে খাওয়ার কিছু ছবি ফেসবুকে দিয়েছিলাম সেগুলো নিয়ে এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সে আমার বড় ভাই। তাই মামলায় তাকে স্বাক্ষী করেছি। মূলত আমি আমার বাচ্চাকে আমার কাছে ফেরত চাই।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ

প্রকাশিত সময় ০৭:৫৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
29

প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে। এরপর দাম্পত্য কলহ, অর্থ ও জমি লিখে দেওয়ার চাপ এবং একের পর এক মামলা। এমন নানা অভিযোগে জটিল হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের এক দম্পতির পারিবারিক বিরোধ। স্বামী মোকছেদুল ইসলাম রবি অভিযোগ করেছেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন আদালত ও দপ্তরে মোট পাঁচটি মামলা ও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার খামার জগন্নাথপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে মোকছেদুল ইসলাম রবির সঙ্গে নীলফামারী সদর উপজেলার দারোয়ানী বানিয়াপাড়া গ্রামের সালাম মোল্লার মেয়ে সুইটি সামিরার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১০ সালে তাদের প্রেম শুরু হলেও ২০২০ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

রবির অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রী সুইটি সামিরা তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। নিজের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সেখানে টাকা জমা রাখা অথবা জমি তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। এতে রবি অপারগতা প্রকাশ করলে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

রবি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে সুইটি সামিরা মিরাজ ই মোস্তফার সহযোগিতায় প্রথমে সৈয়দপুর থানায় এবং পরে জেল হাজতে থাকা অবস্থায় পার্বতীপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ছাড়া দিনাজপুরের আমলি আদালত-৫ এবং লিগ্যাল এইডসহ বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা ও অভিযোগ করা হয়েছে।

রবির দাবি, এসব মামলায় রহস্যজনকভাবে মিরাজ ই মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সুযোগ নিয়ে মিরাজ তাদের পারিবারিক সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করেন। এমনকি মিরাজের সঙ্গে তার স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার অভিযোগও করেছেন রবি। তার দাবি, মিরাজের প্ররোচনাতেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মিরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী ঢাকায় যাতায়াত করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিরাজকে সু্ইটি তার ভাই দাবী করলেও পারিবারিক ভাবে সে কোন আত্মীয় নয়।

এদিকে, ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন রবি। মিরাজ ই মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সে সম্পর্কে আমার বোন। তার সাথে আমার কোন খারাপ সম্পর্ক নেই। যা রটানো হচ্ছে তা মিথ্যা।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন অভিযুক্ত সুইটি সামিরা। তিনি বলেন, রবি বিবাহিত হলেও তা গোপন করে আমাকে বিয়ে করে। আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৩২ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে সে। শুধু তাই নয়, মিরাজ ই মোস্তফাকে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে যে অপবাদ দেয়া হয়েছে তা সত্য নয়। অনেক আগে মিরাজের সাথে অফিশিয়াল কাজে ঢাকাতে গিয়েছিলাম সে সময়ের হোটেলে খাওয়ার কিছু ছবি ফেসবুকে দিয়েছিলাম সেগুলো নিয়ে এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সে আমার বড় ভাই। তাই মামলায় তাকে স্বাক্ষী করেছি। মূলত আমি আমার বাচ্চাকে আমার কাছে ফেরত চাই।